আসলে কতটুকু পানি দরকার? হাইড্রেশনের বাস্তব গাইড

শরীর যা কিছু করে তার প্রায় সবকিছুতেই পানির ভূমিকা আছে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ থেকে পুষ্টি পরিবহন পর্যন্ত। তবু কতটুকু পানি পান করা উচিত, এ নিয়ে পরামর্শে অনেক অতি-সরল নিয়ম চালু আছে। এখানে হাইড্রেশন নিয়ে আরও বাস্তবসম্মত একটি আলোচনা।
“দিনে আট গ্লাস” নিয়মটি মনে রাখার সহজ উপায়, কিন্তু এটি বৈজ্ঞানিক বাধ্যবাধকতা নয়। কতটুকু তরল দরকার তা নির্ভর করে শরীরের আকার, কর্মকাণ্ডের মাত্রা, আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যের ওপর। রিয়াদ বা ফেনীর গ্রীষ্মের মতো গরমে কিংবা ব্যায়ামের সময় ঘামের মাধ্যমে বেশি তরল বেরিয়ে যায়, তাই বেশি পান করতে হয়।
বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য তৃষ্ণাই নির্ভরযোগ্য সংকেত। তৃষ্ণা পেলে এবং খাবারের সঙ্গে পানি পান করলে সাধারণত যথেষ্ট হাইড্রেশন থাকে। হালকা হলুদ প্রস্রাব প্রায়ই পর্যাপ্ত পানি পানের সহজ লক্ষণ, আর টানা গাঢ় রঙের প্রস্রাব বেশি তরলের প্রয়োজন বোঝাতে পারে।
তরল শুধু সাদা পানি থেকে আসে না। চা, দুধ, স্যুপ এবং শসা, কমলা ও তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ খাবারও অবদান রাখে। তবে মিষ্টি পানীয় ও এনার্জি ড্রিংকে ক্যালোরি ও চিনি থাকে, তাই প্রতিদিনের সেরা পছন্দ পানিই।
কিছু মানুষের বাড়তি মনোযোগ দরকার: বয়স্কদের তৃষ্ণার সংকেত দুর্বল হতে পারে, শিশুরা খেলতে গিয়ে পানি খেতে ভুলে যায়, আর যাঁরা বাইরে কাজ বা ব্যায়াম করেন তাঁদের খুব তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত পান করা উচিত।
কিছু অভ্যাস সাহায্য করে: হাতের কাছে বোতল রাখুন, প্রতিবার খাবারের সঙ্গে এক গ্লাস পানি খান, ভ্রমণে পানি সঙ্গে রাখুন। সাদা পানি একঘেয়ে লাগলে এক টুকরো লেবু বা কয়েকটি পুদিনা পাতা এটিকে মুখরোচক করতে পারে।
অল্প সময়ে অতিরিক্ত পানি পান করাও সম্ভব এবং তা ক্ষতিকর হতে পারে, তাই জোর করে বেশি পানি খাওয়ার কোনো লাভ নেই।
এই লেখা শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে বা তরলের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে এমন ওষুধ খেলে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীর নির্দেশনা মানুন।
— পরিবেশনায় অনিক্স ডিজিটাল হাব, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ব্যবসাকে সেবা দেওয়া একটি ডিজিটাল এজেন্সি।



